প্রিন্টের তারিখঃ Feb 3, 2026
প্রকাশের তারিখঃ Jan 6, 2026
জামালপুর থেকে রৌমারী রেল লাইন হলে যে সুবিধা মিলবে
বিশেষ প্রতিবেদন। কুড়িগ্রাম- জামালপুর
জামালপুর থেকে কুড়িগ্রামের রৌমারী পর্যন্ত নতুন রেলপথ স্থাপন করা হলে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ, অর্থনীতি ও সামাজিক জীবনে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিন ধরে সড়ক ও নৌপথনির্ভর এই অঞ্চলের মানুষ রেল যোগাযোগের স্বপ্ন দেখছেন। রেললাইন চালু হলে জামালপুর–রৌমারী অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত হবে দ্রুত, নিরাপদ ও স্বল্প ব্যয়ে। বর্তমানে দীর্ঘ সময় ও বেশি খরচে যাতায়াত করতে হলেও রেল চালু হলে সেই ভোগান্তি অনেকাংশে কমবে। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতে নতুন গতি আসবে। রৌমারী ও আশপাশের এলাকায় উৎপাদিত ধান, পাট, ভুট্টা, সবজি ও মাছ সহজেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো যাবে। এতে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং পরিবহন ব্যয় কমবে। ব্যবসায়ীরা দ্রুত পণ্য সরবরাহ করতে পারায় স্থানীয় ও আঞ্চলিক বাজার সম্প্রসারিত হবে।
রেলপথ নির্মাণ ও পরবর্তী পরিচালনায় স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি রেল সংযোগকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠতে পারে নতুন বাজার, গুদাম, শিল্প ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এতে সামগ্রিকভাবে অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চাঙা হবে। রেল যোগাযোগ চালু হলে মানুষ সহজেই উন্নত চিকিৎসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সেবায় পৌঁছাতে পারবে। জরুরি রোগী পরিবহনও হবে দ্রুত ও নিরাপদ। ফলে জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে। রৌমারী সীমান্তবর্তী উপজেলা হওয়ায় রেল যোগাযোগ স্থাপিত হলে কৌশলগত ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব বাড়বে। ভবিষ্যতে আন্তঃআঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দ্রুত জামালপুর–রৌমারী রেললাইন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে শুধু যোগাযোগ নয়, উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নের নতুন দ্বার খুলে যাবে।