কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় অবাধে চলাচল করছে অবৈধ মাটিকাটা গাড়ি, যা বর্তমানে জননিরাপত্তা, পরিবেশ ও গ্রামীণ অবকাঠামোর জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব গাড়ির নেই কোনো বৈধ রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস কিংবা চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স। বর্তমান দেশের জ্বালানি তেলের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির মধ্যেও এসব অবৈধ গাড়ির কার্যক্রম থেমে নেই। সাধারণ মানুষ যেখানে তেলের বাড়তি দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে অবাধে জ্বালানি ব্যবহার করে প্রতিদিন ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন কৃষিজমির উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, অবৈধভাবে জ্বালানি সরবরাহ বা অপব্যবহারের কারণেই এসব গাড়ি নির্বিঘ্নে চলাচল করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এসব মাটিকাটা গাড়ি অধিকাংশই অদক্ষ চালক দ্বারা পরিচালিত হওয়ায় প্রায়ই ছোট—বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে সরু গ্রামীণ সড়কে দ্রুতগতিতে চলাচলের কারণে পথচারী ও সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
এছাড়া ভারী এসব যানবাহনের কারণে গ্রামের কাঁচা ও আধাপাকা সড়ক দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে জনসাধারণের চলাচলে দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। সচেতন মহল বলছে, যেখানে একটি মোটরসাইকেল চালাতে রেজিস্ট্রেশন, লাইসেন্স ও ফিটনেস বাধ্যতামূলক, সেখানে সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত এসব মাটিকাটা গাড়ির অবাধ চলাচল এবং জ্বালানির সহজলভ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ। দ্রুত প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ ছাড়া এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন, অবৈধ মাটিকাটা কার্যক্রম বন্ধ, জ্বালানির অপব্যবহার রোধ এবং এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের। বর্তমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে অবৈধ মাটিকাটা কার্যক্রম আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিবেশ বিপর্যয় ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণে বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।