আব্দুল
খালেক, রৌমারী
(কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের
রৌমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙনে অন্তত ১৭০টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে
মানবেতর জীবনযাপন করছে। সুখেরবাতী, ঘুঘুমারী, সোনাপুর, চর গেন্দার
আগলা ও খেদাইমারীসহ কয়েকটি গ্রামের ঘরবাড়ি, আবাদি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় অনেক
পরিবার খোলা আকাশের নিচে, রাস্তার
পাশে কিংবা অন্যের জমিতে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের একটাই দাবি ত্রাণ নয়, স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ। সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রহ্মপুত্রের অব্যাহত ভাঙনের আতঙ্কে অনেক পরিবার
নিজেদের ঘরবাড়ি খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে অধিকাংশেরই
স্থায়ীভাবে বসবাসের মতো কোনো নিরাপদ জায়গা নেই। সুখেরবাতী গ্রামের বাসিন্দা বানেছা খাতুন
বলেন, নদী তাদের
বাড়ির একেবারে কাছে চলে এসেছে। ঘর সরিয়ে নিলেও স্থায়ীভাবে থাকার মতো কোনো জায়গা
নেই। ঘুঘুমারী
এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা জয়নাল, আফসার ও
আব্দুল কাদের জানান, কয়েক বছর
আগেও তাদের বসতভিটা বর্তমান নদীর তীর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে ছিল।
দীর্ঘদিনের ভাঙনের কারণে তারা ১০ থেকে ১২ বার ঘরবাড়ি স্থানান্তর করতে বাধ্য
হয়েছেন। বারবার সর্বস্ব হারিয়ে এখন তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর নদীভাঙন শুরু হলে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি
ব্যবস্থা হিসেবে কিছু জিও ব্যাগ ফেললেও তা দীর্ঘমেয়াদে কোনো সুফল দেয় না। তাদের
দাবি, স্থায়ী তীর
সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিবর্তে প্রতিবছর অস্থায়ী কাজের মাধ্যমে সরকারি অর্থ
ব্যয় করা হলেও ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো ফল মিলছে না। চর শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে
এম সাইদুর রহমান দুলাল বলেন, স্থায়ী বাঁধ
নির্মাণের উদ্যোগ না নিয়ে প্রতি বছর অস্থায়ীভাবে বালুভর্তি বস্তা ফেলার জন্য বিপুল
অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। পরিকল্পিত স্থায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এত পরিবারকে গৃহহীন
হতে হতো না। রৌমারী
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. শামসুদ্দিন জানান, ইতোমধ্যে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত চারটি পরিবারকে ঢেউটিন ও
নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বাকি ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে।
তালিকা পাওয়ার পর পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। এদিকে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের
নির্বাহী প্রকৌশলী রকিবুল হাসান বলেন, ভাঙনকবলিত
এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি তীর সংরক্ষণ
প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দাবি, সাময়িক ত্রাণ নয়; তাদের জীবন, ঘরবাড়ি ও
কৃষিজমি রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণই এখন সময়ের সবচেয়ে বড়
প্রয়োজন। তাদের ভাষায়, "আমরা ত্রাণ
চাই না, এমন একটি
বাঁধ চাই যাতে প্রতিবছর ভিটেমাটি হারিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করতে না হয়।"
মন্তব্য করুন