আব্দুল খালেক, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চরশৌলমারী ইউনিয়নের চরশৌলমারী ডিগ্রি কলেজের সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। ৩১ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে কলেজ প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কলেজের শিক্ষার্থী, স্থানীয় অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় তারা ‘ফখরুল হঠাও, কলেজ বাঁচাও’, ‘দুর্নীতিবাজ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও স্বেচ্ছাচারী সভাপতি অপসারণ চাই’—সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করে ক্লাস চালু, অতিরিক্ত ভর্তি ফি ও ফরম পূরণের ফি বাতিল, কলেজের কথিত অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত, সুশৃঙ্খল শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত এবং কলেজের অ্যাকাউন্ট থেকে ৪ লাখ ১৪ হাজার টাকা ব্যয়ে করা কাজের বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা দ্রুত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কলেজের সভাপতি আনিছুর রহমানের অপসারণের দাবি করেন।মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে শিক্ষার্থী হাসান মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও সভাপতি মিলে প্রতিষ্ঠানের তহবিল আত্মসাৎ করেছেন। শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া বিভিন্ন ফি নিয়ে কোনো স্বচ্ছতা নেই। তিনি অভিযোগগুলোর তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। শিক্ষার্থী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, অসুস্থতার কারণে নিয়মিত অধ্যক্ষ অনুপস্থিত থাকার সুযোগে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কলেজটিকে নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতো ব্যবহার করছেন বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, তাদের দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আরেক শিক্ষার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তারা একটি সুস্থ ও সুন্দর পড়াশোনার পরিবেশ চান। কলেজের বিভিন্ন উন্নয়ন তহবিলের অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কথিত অনিয়মের কারণে কলেজের নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। অভিভাবক ও কৃষক দল চরশৌলমারী ইউনিয়ন শাখার আহ্বায়ক মো. আব্দুল হামিদ বলেন, একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনিয়ম কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অভিভাবক হিসেবে তারা উদ্বিগ্ন। তিনি কলেজের অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। তিনি বলেন, অধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেন অসুস্থ থাকায় তাঁকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তিনি প্রশাসনিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে কলেজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এসব মিথ্যা অভিযোগ করছে বলেও দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে কলেজের অধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেন বলেন, তিনি অসুস্থ থাকায় তাঁকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে কোনো নিয়োগপত্র বা আদালতের আদেশ নেই বলে তিনি দাবি করেন। মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেন। দ্রুত তাদের দাবি ও অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা। তবে মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মন্তব্য করুন